কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক ভেঙ্গে ঝুঁকিতে যান চলাচল

0
(0)

জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার থেকে

মৌলভীবাজারের শমশেরনগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলে কয়েক মাসের চলমান বৃষ্টিতে সড়ক ভেঙ্গে ঝুঁকিতে যান চলাচল। যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। দীর্ঘ ২১ কি:মি: সড়কে দুই শতাধিক স্থানে গর্তের দেখা দিয়েছে। উপজেলা চৌমুহনা থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের সাত কি:মি: পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ভেঙ্গে নাজুক অবস্থা রয়েছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার শমশেরনগর বিমান বন্দর এলাকা থেকে উপজেলা সদর হয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরের এ সড়কে প্রায় দ্ইুশত স্থানের পিচঢালা উঠে যানবাহনের চাপে পাথর সড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমার ফলে প্রতি নিয়ত যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এমনকি মটরসাইকেল আরোহীরা উল্টে পড়ে আহত হচ্ছেন। অনেক যানবাহনের যন্ত্র ভেঙ্গে বিকল হয়েও যায়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরের সাত কি:মি: এলাকায় অনেক স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ভাঙ্গন যেন যানবাহনের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কে গর্ত হয়েছে যে কোনভাবেই গর্ত পরিহার করে যানবাহন চালানো দুষ্কর। এখন যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থান উন্নয়ন না করলে পাহাড়ি টিলার নেমে আসা পানিতে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙ্গে ছোট ও মাঝারি নালার সৃষ্টি হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এ সড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে থাকে।
শমশেরনগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক পরিদর্শণকালে এ পথের বাস চালক আলী আজম, মাইক্রোবাস চালক মোস্তফা মিয়া, সিএনজি চালক মনির হোসেন ও জসিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪/৫ মাস ধরে এ সড়ক ভেঙ্গে দুই শতাধিক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। প্রায় শতাধিক স্থানে সড়কধার ভেঙ্গে গেছে। এ পথ এখন স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। তার পরও নিজের রোজগারের চিন্তায় আর যাত্রীদের চাহিদার কারণে বাধ্য হয়ে যানবাহনকে কষ্ট দিয়ে এ পথে যানবাহন চালিয়ে যাচ্ছি। পূর্বে ২১ কি:মি: পথে যানবাহন চলাচলে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগলেও বর্তমানে এক ঘন্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচল করায় চালক আর যাত্রীদের গায়ে ব্যথা হয়ে যায়।
চালকরা আরও বলেন, এ পথ ব্যবহার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান লেক হয়ে বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতেও দেশী বিদেশী পর্যটক ও সরকারী বিভিন্ন বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা যাতায়াত করেন। তার পরও সড়কের এ বেহাল অবস্থা যেন সরকারী উর্দ্ধতন কোন বিভাগীয় কর্মকর্তার নজর কাড়ছে না ?
সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, কয়েক মাস ধরে টানা বৃষ্টিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ পর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকছে না। গরুত্বপূর্ণ সড়ক বলে তা সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা সড়ক জনপথেল সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.