কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে সৌদি আরব

0
(0)

মো: মাসুম বিল্লাহ//
উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপের’ অভিযোগে কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।
কয়েকটি টুইটে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কানাডা থেকে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, সৌদি আরবে বেশ কয়েকজন মানবাধিকার আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছিল কানাডা, প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে সৌদি-আমেরিকান নারী অধিকার আন্দোলন কর্মী সমর বাদাউয়ি রয়েছেন। তিনি সৌদি আরবের ‘পুরুষ অবিভাবক’ পদ্ধতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি নারী অধিকার আন্দোলন কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নিবে না’।
এ প্রসঙ্গে তারা গত শুক্রবার কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতির উল্লেখ করেছে। ওই বিবৃতিতে সুশীল সমাজ ও নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ‘অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।
কানাডার এ অবস্থানকে সৌদি আরবের ওপর ‘একটি হামলা’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক ঘোষণায় মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, এখন থেকে তারা:
দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধ রাখবে।
কানাডার রাষ্ট্রদূতকে একজন অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি (পারসোনা নন গ্রাতা) হিসেবে বিবেচনা করে ওই রাষ্ট্রদূতকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কানাডা থেকে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
সৌদি আরবের এসব কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কানাডা সরকার প্রকাশ্য কোনো বিবৃতি দেয়নি।
চলতি বছর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের তত্ত্বাবধানে সৌদি সরকার তার যে প্রগতিশীল ভাবমূর্তি দেখিয়েছিল, নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার তার সঙ্গে ঠিক মানানসই নয় বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
চলতি বছরের ২৪ জুন সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়; গত বছর শতাব্দি পুরনো এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মোহাম্মদ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন।
সৌদি নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্তে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধীতা করে কারাবরণকারী আন্দোলনকারীরাও ছিলেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.