মৃত্যুর ঘটনায় করা মন্তব্যেরজন্য ক্ষমা চাইলেন শাজাহান খান

0
(0)

সবুজ বাংলা অনলাইন ডেস্ক//
বেফাঁস মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন শাজাহান খানরাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মন্তব্যের সময় হাসি নিয়ে অবশেষে ক্ষমা চাইলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
মঙ্গলবার মতিঝিলে বিসিআইসি মিলনায়তনে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি সভায় ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় হাসির ঘটনায় কেউ মর্মাহত হলে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
বাস দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার আগেই সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।
শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নানাভাবে কথা বলার চেষ্টা করেন। আমিও কথা বলার সময় তাদেরই কথার প্রেক্ষিতে হেসেছি কখনো, কখনো অন্যভাবে কথা বলেছি। শুধু ওইটুকুই নয়, আরও অনেক কথা হয়েছে, যদি কেউ ফুটেজ সব দেখতে পারেন, ভালো হবে। এ বিষয়ে যারা আহত হয়েছেন আমি এ জন্য দুঃখিত, লজ্জিত।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান বলেন, আমি সবার কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে আমার বক্তব্যটা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যা করলে চালকদের প্রচলিত আইনে শাস্তি পেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শাস্তি থেকে রক্ষার জন্য কোনো শ্রমিক সংগঠন ওই চালকদের পক্ষ নেবে না।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের চাপা দেয় জাবালে নূর (ঢাকা মেট্রো ব-১১৯২৯৭) পরিবহনের একটি বাস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেক শিক্ষার্থী।
এ সময় মোহাম্মদপুর-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক ছাত্র ও এক ছাত্রী নিহত হন। এছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন।
এদিকে ঘটনার পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
নিহত একজনের নাম আবদুল করিম, তিনি শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। একই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী দিয়া খানম ওরফে মীম। তিনি একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ওইদিনই সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী শাজাহান খান হেসে এর জবাব দেন। তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরের দিন সোমবার নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.