কমলগঞ্জে অপরাধী কর্তৃক দুই এএসআই আহত

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি//
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত ও জড়িয়ে ধরে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার আসামী ধরতে গেলে আসামী পক্ষের লোকের হামলায় হাতকড়া ভেঙ্গে দুই এএসআই আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী নির্যাতন আইন ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে কমলগঞ্জ থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ২টায় শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইর দেউল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এ বছর উত্তীর্ণ ছাত্রী (সাদিয়া আক্তার)-কে গত এক বছর ধরে উত্যক্ত করছিল ভাদাইর দেউল গ্রামের কসাই হারুন মিয়া ওরফে লুন্দুর মিয়ার ছেলে রাহেল আহমদ (২০)। ছেলেটি উৎপাতে কলেজে যাতায়াত করতেও ব্যাঘাত ঘটছে ছাত্রীর। গতবছর ছাত্রীটি কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে রাহেল তাকে জড়িয়ে ধরে এক বন্ধুর সহায়তায় ভিডিও ধারণ করেছিল। ধারণকৃত ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে সে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা হামিদা বেগম (৪৫) কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।
কিছু দিন উৎপাত বন্ধ থাকার পর (৩১ জুলাই) মঙ্গলবার দুপুরে আবারও বখাটে রাহেল ছাত্রীকে একা পেয়ে তার পরনের ওড়না টেনে নিয়ে টানা হেছড়া করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি জানার পর শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত রাহলেকে ধরতে সরজমিন গিয়ে বখাটে রাহেলের বাসায় তাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়। এসময় তার বাবা কসাই হারুন মিয়া ওরফে লুন্দুর মিয়া, তার দুই মেয়ে ও দুই স্ত্রী পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলায় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই তৈয়ব আলী ও এএসআই শাহিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। আসামী পক্ষের লাঠির আঘাতে হাতকড়াটিও ভেঙ্গে যায়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম শমশেরনগর এসে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ঘটনাকারী ছেলে ও তার বাবাকে কমলগঞ্জ থানা হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত দুই এএসআইকে চিকিৎসা করা হয়েছে। এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ কাজে বাঁধাসহ পুলিশের উপর হামলার দায়ে পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করা করা হবে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএমও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করছেন। পুলিশ কাজে বাঁধাসহ পুলিশের উপর হামলায় মামলার প্রস্তুুতি চলছে। বাবা ও ছেলেকে আটক করা হয়েছে।