কমলগঞ্জে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে স্বামী আটক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা//মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের পতনঊষার গ্রামে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নিজ ঘরে সাহানা বেগম (২৫) কে নির্যাতনের পর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড় টায় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি লাশ উদ্ধার করে ও নিহতের স্বামী ফেরদৌস মিয়া (৩০) কে আটক করে।

নিহত সাহানা বেগমের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, শুক্রবার রাত বার টায় ফেরদৌস মিয়া আমাকে ফোন করে জানায় সাহানা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তারপর রাতেই বাড়িতে গিয়ে দেখি বোনের মৃত দেহ। এরপরও স্বামীর বাড়ির লোকজন বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আমরা হাসপাতাল থেকে বোনের মৃতদেহ শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। তিনি আরও বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করার কারনেই মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিহতের বড় ভাই জানান।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে বহিরাগত মেয়েদের সাথে বোনের স্বামী ফেরদৌস মিয়ার মোবাইল ফোনে আলাপ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। এ নিয়ে আমার বোনের উপর অত্যাচার করে ফেরদৌস। পরে খবর পেয়ে নিজে উপস্থিত থেকে তাদের পারিবারিক বৈঠকে সেটি সমাধা করে দিই। ফেরদৌস মিয়া বিভিন্ন সময়ে আমার বোনকে নির্যাতন করে করে আসছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ বিষয়ে ফেরদৌস মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতে খাওয়া পর সাহানার বুকে ব্যথ্যা দেখা দিলে ঔষধ খাওয়াই। এরপরও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। নির্যাতন করার প্রশ্নই আসে না। নিহত সাহানা বেগম কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক গ্রামের কদর আলীর মেয়ে। পাঁচ বছর পূর্বে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে ফেরদৌস মিয়ার সাথে তাঁহার বিয়ে হয়। তাদের দেড় বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, নিহতের পরিবাররা লাশ ফাড়িতে নিয়ে এসে পরিবারের দাবি নিহতের স্বামী তাকে হত্যা করছে। তিনি আরও বলেন, লাশের ময়না তদন্তের পর বিষয়টি বুঝা যাবে। এ অভিযোগে স্বামীকে আটক রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ না দিলে রাতে অপমৃত্যু মামলা দেওয়া হবে।