ধলাই নদীর নতুন বাঁধ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন আতংকে এলাকাবাসী

0
(0)

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি//
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মণিপুরী এলাকা হিরামতি গ্রামে নির্মানের ৩ মাসের মধ্যে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষার ৮০০ ফুট লম্বা নতুন বাঁধ প্রায় ৫০০ ফুট বাঁধটির ফাটলসহ অধিকাংশ নদী গর্ভে বিলিন। হিরামতিসহ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় আতংকে এলাকাবাসী।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানান, যথাসময়ে ধলাই নদীর হিরামতির বাঁধটি স্থায়ীভাবে ব্লক দিয়ে মেরামত না করা গেলে আবার নদীর পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। বাঁধটি একটু জায়গা বাকি রয়েছে ভাঙ্গতে। টানা বৃষ্টি শুরু হলে যেকোন মুহুর্তে তলিয়ে যেতে পারে মাধবপুরসহ অনেক এলাকা। নদী ভাঙ্গনের আতংকের মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক হাজার পরিবার। যথাসময়ে ধলাই নদীর হিরামতির বাঁধটি স্থায়ীভাবে ব্লকের মাধ্যমে মেরামত না করা গেলে বাঁধ দিয়ে কোন লাভ নেই। কারণ তিন মাস পূর্বে দেয়া ধলাই নদীর বাঁধটি অধিকাংশ নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গলে মাধবপুর, ভানুগাছ বাজারসহ কমলগঞ্জ, ও মুন্সিবাজার পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবার বন্যার পানিতে পানিবন্দী সহ চরম দূর্ভোগে পড়বে।

এদিকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ সৈয়দ শফিকুর রহমান, শ্যাম কুমার সিংহ, রামহরি নুনিয়া, হিরামতি গ্রামের শিক্ষক পুর্ণচান সিংহ, বাবুল সিংহ, ব্যবসায়ী বদন সিংহ, মাধবপুর বাজারের প্রেমচাঁন কানু, তপন কালোয়ার অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে হিরামতি নতুন বাঁধের কাজ করা হয়, এ সময় ঠিকাদার ধলাই নদীর পুরনো বাঁধের ভেতরের অংশের মাটি কেটে নতুন বাঁধ তৈরী করায় তিন মাস যেতে না যেতেই বাঁধটি চলে গেছে নদী গর্ভে। আবারো এ এলাকার মানুষ পড়েছে চরম ঝুঁকির মুখে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী আসহাবুর ইসলাম শাওন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার গত তিন মাস আগে হিরামতি এলাকায় প্রায় ৮ শত ফুট লম্বা নতুন বাঁধ দেয়ার তিন মাসের মধ্যেই তা আবার চলে গেছে নদী গর্ভে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারকে জানালে হিরামতি বাঁধের পিছনের অংশে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটিকে সাপোর্ট দেওয়া হলেও আবার পানি বড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ব্লকের ব্যবস্থা না করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।

সম্প্রতি মাধবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ হিরামতির বেহাল অবস্থা দেখে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক বরাবর জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার এবং নদীর মধ্যে অপরপাশে জেগে উঠা চর কাটার জোর দাবী জানিয়েছেন। আবার টানা বৃষ্টি শুরু হলে যেকোন মুহুর্তে তলিয়ে যেতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রাম।

মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ ইউনিয়নের হীরামতি, শিমুলতলা, ছয়ছিড়ি, কাটাবিলসহ ৭/৮ টি স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কালের আকস্মিক বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ঢুকে বেশ কিছু এলাকার ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে বীজতলা বিনিষ্ট করেছে।

এদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ধলাই ও মনু নদের ওপর সার্বক্ষনিক নজরদারি রয়েছে। ইতিমধ্যে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার করিমপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের কাটাবিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধগুলোর কাজ করা হয়েছে। বাকীগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগে গ্রহণ করা হবে। এজন্য সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন একটি টিম সফর করে গেছেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.