0
(0)

রাজু ফকির,স্টাফ রিপোর্টার//
মস্কোর লুঝনিকিতে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়েছে ৪-২ ব্যবধানে। ফুটবলের বিশ্ব দরবারে উঁচিয়ে ধরেছে শিরোপা। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ফ্রান্স।
এরপর ২০০৬ সালে উঠেছিল ফাইনালে। কিন্তু সেইবার ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে পাওয়া হয়নি দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বাদ। রাশিয়ায় ফরাসিদের সেই আক্ষেপ ঘুচালো এমবাপের ফ্রান্স। তাতে স্বপ্নের ফাইনালে জেতা হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। যদিও শুরু থেকে শেষ অবধি দাপুটে ফুটবলই উপহার দিয়েছে জ্লাটকো ডালিচের শিষ্যরা। কিন্তু শেষতক এমবাপে-পগবাদের গতিশীল ফুটবলের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণই করতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়ানদের।
লুঝনিকিতে প্রথমার্ধে ভাগ্যের কাছে হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ৪৫ মিনিটে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছিল ডালিচের শিষ্যরা। বল দখল এবং আক্রমণ সব দিকে থেকেই এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু তারপরও প্রথম ভাগ শেষে স্কোরলাইন ফ্রান্স ২, ক্রোয়েশিয়া ১। নিজেদের ভুলেই ওই দুই গোল হজম করতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়ানদের। প্রথমটা ১৮ মিনিটে। মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রোজোভিচ আতোয়ান গ্রিজম্যানকে ফেলে দিলে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। গ্রিজম্যানের নেয়া ওই ফ্রি-কিকেই এগিয়ে যায় ফরাসিরা। ভুল করে বসেন মানজুকিচের। ফরাসি তারকার ফ্রি-কিকটি বিনা বাধায় এগিয়ে যাচ্ছিল গোলরক্ষক সুবাসিচের দিকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে ওঠে তাতে মাথার ছোঁয়া লাগান মানজুকিচ। এতেই দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে (১-০)।
তবে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার সৌভাগ্যটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের। ২৮ মিনিটে তাদের লিড কেড়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলে চার সতীর্থের তিন হেড এবং এক ব্যাক পাসের পর তা ডি-বক্সের ভেতর পেয়ে যান পেরিসিচ। কালক্ষেপণ না করে অসাধারণ এক কোনাকুনি শটে পরাস্ত করেন ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিসকে (১-১)। তবে প্রথমার্ধের নাটকের শেষ দৃশ্যটা ছিল এটা।
৩৮ মিনিটে খলনায়কের চরিত্রে আর্বিভূত হন ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানো পেরিসিচ। প্রতিপক্ষের কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল নিজেদের ডি-বক্সে হাতে লাগিয়ে বসেন তিনি। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেই স্পট-কিক নিতে এসে ভুল করেননি আতোয়ান গ্রিজম্যান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া সুবাসিচকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড হতাশ করেন বামে শট খেলে (২-১)।
দ্বিতীয়ার্ধেও ভাগ্য ফিরেনি ডালিচের শিষ্যদের। ৪৮ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সেভে তাদের হতাশা বাড়ান লরিস। মদ্রিচের পাসে বল পেয়ে দ্রুত কোনাকুনি শট খেলেন রেবিচ। লাফিয়ে উঠে কর্নারের বিনিময়ে দলের লিড আগলে রাখেন ফরাসি গোলরক্ষক। এর চার মিনিট পর নৈপুণ্য দেখান সুবাসিচ। গতির জাদুকর কিলিয়ান এমবাপের অসাধারণ এক শট রুখে দেন ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে পিএসজি তারকাকে সেই আক্ষেপে পুড়তে হয়নি বেশিক্ষণ।
৫৯ মিনিটে ফরাসিদের লিড বাড়ান পল পগবা। সতীর্থদের বানানো বলে নেন দূরপাল্লার শট। তাতেই বাজিমাত করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক এই মিডফিল্ডার (৩-১)। এর ছয় মিনিট পর ক্রোয়েশিয়ানদের স্তব্ধ করে দেন মোনাকোর সাবেক ফরোয়ার্ড এমবাপে। এবার আর গতির পরীক্ষায় নামেননি পিএসজি তারকা। সতীর্থ লুকাস হার্নান্দেজের সহযোগিতায় পগবার মতো দূরপাল্লার এক শটে স্কোরলাইন করেন ৪-১।
শেষ ২০ মিনিটে সানিয়ে যায় একের পর আক্রমণ। পরীক্ষা নেয় ফরাসি রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের। কিন্তু আর দেখা মেলেনি গোলের। তাতে ৪-২ ব্যবধানে স্বপ্নের ফাইনালে হেরে কান্নার সাগরে ডুবে ক্রোয়েশিয়ানরা। অন্যদিকে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে ফরাসিরা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.