দীর্ঘ একমাস ধরে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি রপ্তানি বন্ধ

0
(0)

জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ সংবাদদাতা//
মৌলভীবাজারের শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের ৬ কি:মি: রাস্তায় ১৬টি স্থানে ভেঙ্গে ভয়াবহের সৃষ্টি হয়েছে। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন ভাঙ্গা কালভার্টের উপর একটি নতুন বেইলী সেতু স্থাপনের পর হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করলেও দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি দিন ধরে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ভাঙ্গা স্থানগুলোতে বালি ও ইট সলিং শুরু হলেও ভারী যানবাহন চলাচল এখনও অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে।
সরজমিন শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি স্থানে ছোট বড় ভাঙ্গন নি¤œ ৩৫ ফুট থেকে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে। সড়ক জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সড়কের ভাঙ্গন এলাকায় ইট সলিং কাজ করছে। সড়ক জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা সহকারী তপন বিকাশ দেব বলেন, বন্যার পানির স্রোতে এ সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় ৬ কি:মি: সড়ক ছোট বড় ১৬টি স্থানের ভাঙ্গন দিয়েছে। এ পর্যন্ত ভাঙ্গনের ৮টি স্থানে ইট সলিং এর কাজ সম্পন্ন হয়ছে। বাকি কাজ শেষ করতে আরও দুই সপ্তাহ লাঘতে পারে বলে এ কর্মকর্তা জানান।
স্থানীয় সাব ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন নাজির বলেন, বৃষ্টি থাকায় কাজে বিঘœ ঘটায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইট সলিং সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়কের মাটি ড্রেসিং করে দেওয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ফলে শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষজনের দুর্ভোগ অনেকটা কমেছে।
চাতলাপুর চেকপোষ্টের অভিবাসন কর্মকর্তা(ইমিগ্রেশন) এসআই জামাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গা কালভার্টের উপর স্থাপিত বেইলী সেতুর উপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করায় আর ভাঙ্গা সড়ক এলাকার মাটি ড্রেসিং করে দেওয়ায় দুই দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারছে।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রপ্তানিকারক সাইফুর রহমান রিমন, বলেন, ভাঙ্গা কালভার্টের উপর বেইলী সেতু স্থাপিত হওয়ায় ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে ইটসলিং কাজ শুরু হওয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। তবে বেইলী সেতু দিয়ে আমদানি রপ্তানিবাহী ভারী যানবাহন চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আমদানি রপ্তানি শুরু হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সড়ক জনপথ বিভাগ ও শুল্ক বিভাগ নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তারা এ পথে আমদানি রপ্তানি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা(কাস্টমস সুপারেনটেনডেন্ট) আব্দুস সাত্তারও বলেন, এ সড়কে যে সংস্কার কাজ হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য পণ্যবাহী যানবহান চলাচল করতে পারবে না।
সড়ক জনপথের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, স্থাপিত বেইলী সেতু হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোষ্ট পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত সড়কে ইটসলিং কাজ চলছে। তবে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্থ পুরো সড়ক উন্নয়নে প্রস্তাব গ্রহন করে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। দরপত্র হলে দ্রুত সময়ে সড়কের বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য ১৩ জুন বুধবার ভোর রাতে মনু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে মনু সেতুর উত্তর দিকের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২০০ গজ দূরুত্বে একটি কালভার্ট ধেবে যায়। পর্যাক্রমে এ কালভার্টটি ভেঙ্গে গেলে এ পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শরীফপুর ইউনিয়নের আরও ৩টি স্থানে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানির ¯্রােতে সঞ্জবপুর গ্রাম এলাকা থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোষ্ট পর্যন্ত ৬ কি:মি: সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.