কমলগঞ্জে বন্যায় নিখোঁজ ৬ জনের মাঝে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

জয়নার আবেদীন, মৌলভীবাজার সংবাদদাতা//
টানাবৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে নি¤œাঞ্চলের গ্রামে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের বসত ঘরে ২ ফুট পরিমাণ পানি থাকায় পানিবন্ধী মানুষ শনিবার(১৬ জুন) ঈদুল ফিতরের নামাজও আদায় করতে পারেননি। উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানির ¯্রােতে বাবা ছেলেসহ ৬ জন বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এদের মধ্যে শনিবার সকালে বাবাব ছেলেসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বাকী ৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জানা যায়, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে উপজেলার নি¤œাঞ্চলের আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার, কমলগঞ্জ পৌরসভার একাংশ, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের গ্রামে মানুষজন পানিবন্ধী হয়ে আটকা পড়েন। তাদের বাড়ি ঘরে উঠানে কোমর পরিমাণ পানি হলেও বসতঘরে ২ ফুট পরিমাণ পানি রয়েছে। যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানিবন্দীদেরকে উদ্ধারও করা সম্ভব হচ্ছেনা।

শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আদমপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়কের পানির ¯্রােতে ভেসে যান ইসলামপুর ইউনিয়নের সাত্তার মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে করিম মিয়া (২০)। ঈদের দিন শনিবার সকাল পৌনে ৮টায় শমশেরনগর শিংরাউলী গ্রামে পানি অতিক্রম করে সড়ক দিয়ে পারাপারের সময় জামাল মিয়া (৫৪) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভেসে যায়। শনিবার সকাল ৮টায় আলীনগর ইউনিয়নের হালিমা বাজার এলাকায় পানির ¯্রােতে ভেসে যান সেলিম মিয়া (৪০) নামের এক প্ররিবহন শ্রমিক।

অন্যদিকে শনিবার সকালে কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের মান্দারীবন এলাকায় সড়কে উঠা পানির মাঝ দিয়ে চলাচলের সময় গ্রামে যাত্রীসহ একটি সিএনজি পানিতে ভেসে যায়। চালকসহ ৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যাত্রীকে এখন ও উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় আলীনগর ইউনিয়নে লাঘাটা ছড়ায় পানিতে ভেসে গেছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের আক নারী। আদমপুর ইউনিয়নে নিখোঁজ বাবা সাত্তার মিয়া ও তার ছেলে করিম মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হলেও শমশেরনগর ইউনিয়নে জামালা মিয়া নামের মানসিক প্রতিবন্ধীর লাশও উদ্ধার করা হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বন্যার পানিতে ৬ জন নিখোঁজের পর ৩ জনের লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পানিবনন্ধী মানুষকে উদ্ধারে তেমন কোন সু-ব্যবস্থা না থাকলেও সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল আসছে। তবে সমস্যা হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশের সবগুলো সড়ক বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব সড়কে কয়েকটি স্থানে ৪ থেকে ৫ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সেনা বাহিনীর উদ্ধারকারী দলকে কমলগঞ্জে আনার চেষ্টা চলছে।