বাস্তবায়ন যোগ্য বাজেট হয়েছে-আবুল মাল আব্দুল মুহিত

মিতু গাইন স্টাফ রিপোর্টার//
বাস্তবায়ন করা সম্ভব এমন বাজেটই দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি সেটাই হবে। আগে লক্ষ্য অর্জনের সফলতা কম ছিলো। তবে গত বছর সেটা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। এই সফলতার কারণ দেশের গ্রোথ রেট।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্পোরেট করের উচ্চতম হার সাড়ে ৭ পার্সেন্টে নিয়ে এসেছি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে যে কর্পোরেট আয় সেটা তুলনীয়। নতুন করে কোনো কর দেওয়া হবে না বলেছিলাম। সেটা রাখা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের সুদহার পর্যালোচনা করে তা চূড়ান্ত করা হবে। চল্লিশ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স খুব কম দেশেই আছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমার সব বাজেটই নির্বাচনী বাজেট।আমি একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তাই বাজেট নির্বাচনী হবে। আমি এমন বাজেট দিই যেটা মানুষ পছন্দ করবে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বোধ ও যাদের দেশপ্রেম নেই, তারাই বলে ভুয়া বাজেট। ভুয়া বাজেট বলে কিছু নেই। বাজেট যখন দেই, সেটা ভেবেই দেই। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা যা নির্ধারণ করেছি তা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজেটে অনলাইন কেনাকাটায় কর নেই। এটা বাজেট বক্তৃতায় ভুল ছাপা হয়ে থাকতে পারে। গুগল ও ইউটিউবে কর বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দশম এই বাজেটে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়বে কি না এই প্রশ্নে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন এই বাজেটে বৈষম্যের হার বাড়বেনা। ব্যাংকিং সেক্টরকে সুবিধা দেয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে, সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনতেই ব্যাংকিং খাতকে সুবিধা দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
ঋণ পরিশোধে সরকার কখনো ব্যর্থ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কখনো বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এবং বাংলাদেশ কখনো ঋণ খেলাপি হয়নি বলেও জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরো জানান, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিল্পব ঘটেছে। কৃষকের জন্য কৃষি ঋণ এবং এসএমই ঋণ এসব কিছুই করা হয়েছে দেশের উন্নয়ম ও বৈষম্য কমানোর জন্য।
বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে জানিয়ে জ্বালানী উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানীর চেয়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি স্বাভাবিক।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ।