কমলগঞ্জে মসজিদের পাশে জামায়াতে ইসলামীর মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)সংবাদদাতা//
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের কেছুলুটি গ্রামে দুইটি মসজিদ থাকার পরও জামায়াতে ইসলামী ও জামায়াত শিবির নেতার উদ্যোগে নতুন মসজিদ স্থাপন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামী নেতার মসজিদ নির্মাণে এলাকাবাসীর পক্ষে রবিবার কমলগঞ্জ থানা ও পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, কেছুলুটি গ্রামের দক্ষিণাংশে ও উত্তরাংশে পৃথক দুইটি মসজিদে দুই পাশের মসজিদদ্বয়ে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল মছব্বির তার নিজ বাড়ির সম্মুখে জামায়াত শিবির এর কতিপয় লোকজনকে নিয়ে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তাতে এলাকার ছুন্নী মুসলমান বাঁধা প্রদান করলেও এলাকার বাঁধা উপেক্ষা করে মসজিদের কাজ চালিয়ে যান। ফলে এলাকার মুসলমান সর্বসাধারণের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোন সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল মছব্বির জামায়াতে ইসলামী শমশেরনগর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সে সুযোগে বিভিন্ন সময়ে জামায়াত শিবিরের লোকেরা তার বাড়িতে আসা যাওয়া করেন এবং বিভিন্ন ঘরোয়া বৈঠক করেন। কয়েকদিন আগেও তার বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার পার্টিও অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন। কেছুলুটি গ্রামের দুরুদ আলী, সফিক মিয়া সহ গ্রামবাসীরা বলেন, দুইটি মসজিদ থাকার পরও জামায়াতে ইসলামীর নেতা নতুন মসজিদ নির্মাণের নামে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা সৃষ্টি করছেন। এজন্য কমলগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে আব্দুল মছব্বির বলেন, একান্ত পারিবারিক উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। আমার ভাইয়েরা টাকা দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করছেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোকতাদির হোসেন পিপিএম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শমশেরনগর ফাঁড়ির আইসিকে বিষয়টি তদন্তের জন্য বলেছি। শমশেরনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ রায় চৌধুরী বলেন, অভিযোগে পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তক্রমে গুরুত্বের সহিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।