গৌরনদীতে দুই গ্রুপ স্কুল ছাত্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অভিভাবকসহ আহত ৬

গৌরনদী বরিশাল,প্রতিনিধি//
ক্লাসের সিনিয়রকে নাম ধরে ডাকার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের বাদামতলা এলাকায় দুই গ্রুপ স্কুল ছাত্রের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে ছাত্রদের অভিভাবক ও স্বজনসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত জনকে ১ জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সূত্রে জানাগেছে, উপজেলা সদরের গ্রামের উত্তর পালরদী গ্রামের বাসিন্ধা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরদারের ছেলে ও গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র অন্তর সরদার (১৫) তার এলাকার সমবয়সী বন্ধুদের সাথে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে উপজেলা সদরের বাদাম তলা রিকসা ষ্ট্যান্ডে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তি বানিয়াশুরি গ্রামের আরিফ তালুকদারের ছেলে একই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র সাব্বির তালুকদার (১৫) সেখানে যায়। সাব্বিরকে দেখে কে দেখে অন্তর তার নাম ধরে ডাক দেয়। এতে সাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে তার নাম ধরে ডাক দেয়ার প্রতিবাদ করে। জবাবে অন্তর সরদার বলে আমি আর তুইতো একই ক্লাশে পড়তাম। আমি লেখাপড়ায় এক বছর গ্যাপ দেয়ায় তোর এক ক্লাস নিচে আছি এতে তুই সিনিয়র হলি কি করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাক বিতন্ডা হয়। এরপর গত দুই দিনদিন ধরে দুই দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাব্বির তালুকদার, রবি তালুকদার, রমজান তালুকদার, দিনু তালুকদার, নাঈম বয়াতী মিলে অন্তর সরদারের ওপর হামলা চালায়। এর সময় অন্তর সরদারের ডাক চিৎকারে তার বাবা দেলোয়ার সরদার তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তার ওপর আক্রমন চালায়। এতে অন্তর সরদার (১৫) ও তার বাবা দেলোয়র সরদার (৪৮) আহত হয়। এ সময় হামলাকারীরা ২টি বসতঘর ভাংচুর করে। এর পরপরই অন্তর সরদারের পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় সাব্বিরের পক্ষের নওশেদ হাওলাদার (১৫), নাঈম চাপরাশি (১৬), হীরন শরীফ (১৫) রবি তালুকদার (২৪) আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ঘে গুরুতর আহত নওশেদ হাওলাদারকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও উভয় পক্ষের আহত অন্তর সরদার (১৫), দেলোয়র সরদার (৪৮), নাঈম চাপরাশি (১৬), হীরন শরীফ (১৫)কে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।