মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের মানুষ স্বস্তিেত- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মিতু গাইন স্টাফ রিপোর্টার//
সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে। যারা মাদক পাচার করে তাদের ধরতে গিয়ে অনেক সময় অনেক কিছু ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভারত সফর করে আসা প্রধানমন্ত্রী বুধবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এলে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
মাদকের বিস্তারে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কাকে গডফাদার বলছেন? যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি যখন যা ধরি, ভালো করেই ধরি।
অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই এই মাদকের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন। কোনটা চান? অভিযানটা চলুক না বন্ধ হয়ে যাক? এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের ওপর মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে নিরীহ মানুষ হয়রানি হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে যদি কেউ কিছু করে থাকে সেটার কিন্তু বিচার হয়। আপনারা একটা ঘটনা দেখান যে একজন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে। একটা অভিযান করতে গেলে একটা ঘটনা ঘটলে যদি সেটাকে বড় করে দেখান, তাহলে কি অভিযানটা বন্ধ করে দেবো?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন যাবৎ এটা নিয়ে কাজ করেছে। হঠাৎ করে এ অভিযান শুরু হয়নি। আপনারা কাকে গডফাদার বলছেন সেটা আমি জানি না। যারা জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে উন্নয়ন হয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ ভালো আছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। হাহাকার নয়, অভুক্ত মানুষ নাই, হাড্ডিসার-কঙ্কালসার মানুষ তো নাই। যেটুকু বাকি আছে, সেটাও আমরা করে ফেলব।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেখে গিয়েছিলেন স্বল্পোন্নত দেশ। মাত্রা সাড়ে তিন বছরে তিনি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে এই পর্যায়ে উন্নীত করে গিয়েছিলেন। এরপর আর কোন সরকার কিছুই করতে পারেনি। আমরাই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে দু’দিনের সরকারি সফরে কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন। এ সময় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেন।