গৌরনদীতে মাদ্রাসা শিশুছাত্রীর মুখে গামছা বেধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
মাত্র একশ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসার শিশুছাত্রী কামরুন নাহার সুমাইয়া(৮)কে মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নিতে গৌরনদী থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ কলেছেন নির্যাতিতা শিশুছাত্রীর স্বজনরা। পুলিশ গতকাল শনিবার বিকেলে শিশুছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনকারী ফাতেমা আক্তার লিজা ও হাফিজা আক্তার নামের দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে।
জানাগেছে, ওই শিশুছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনার স্বটিত্র প্রতিবেদন গতকাল শনিবার দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে প্রকাশের পর টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের।
নির্যাতিতা ওই শিশু ছাত্রীর মা গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ কামাল হোসেন বেপারীর স্ত্রী রেনু বেগম জানান, তার একমাত্র শিশু কন্যা কামরুন নাহার সুমাইয়াকে মাত্র একশ’ টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসার আবাসিক হলের ভেতরে বসে তিন শিক্ষক সুমাইয়ার মুখে গামছা বেঁধে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। শুক্রবার সকালে তিনি ওই মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় সুমাইয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি ওইদিন বিকেলে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ওইদিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রেনু বেগম অভিযোগ করেন, গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করেন। তিনি বিষয়টিকে ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য মামলা না করে তাকে একটি সাধারণ ডায়েরী করার পরামর্শ দেন। পরে থানায় একটি সাধারন ডাইরী করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শরীফ আহম্মেদ জানান, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকর অনলাইন সংস্করনে শিশুটির ওপর নির্যাতনের সংবাদ দেখার পর বরিশাল জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত শিশুর সাথে কথা বলে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেয়ার জন্য তিনি থানার ওসির সাথে কথা বলেন।
থানার ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্যাতিতা ওই শিশুছাত্রীর মা রেনু বেগম বলেন, থানার ওসি মনিরুল ইসলামের রহস্যজনক আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গতকাল শনিবার সকালে ওসিসহ অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িতে রওয়ানা হয়েছিলেন। এরই মধ্যে থানার ওসি তাদের ফোন করে থানায় আসার জন্য অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে থানায় যাওয়ার পর ওসি পুরনো (শুক্রবার বিকেলে দায়ের করা) লিখিত অভিযোগ বাদ দিয়ে নতুন করে অভিযোগ লিখিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার খাদিজা বেগমসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা রুজু করেন।
মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মামলা রুজু করার মতো কোন বিষয় ছিলনা। তাই শনিবার সকালে নতুন করে অভিযোগ লিখিয়ে ৪ জনকে আসামি করে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল বিকেলে পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার শাওড়া গ্রামের এক নিকট আতিœয়ের বাড়িতে পালিয়ে থাকা শিক্ষক ফাতেমা আক্তার লিজা, ও বিকেল সোয় ৫টার দিকে উপজেলার দিয়াশুর গ্রাম থেকে শিক্ষক হাফিজা আক্তারকে গ্রেফতার করে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের এক নিকট আত্মীয় পুলিশে চাকরি করেন। ফলে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মামলা নিতে তালবাহানা করেছেন। শনিবার সবুজবাংলা ডট কমসহ বিভিন্ন সংবাদ পত্রে গুরুত্বসহকারে সংবাদটি প্রকাশের কারণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাঁপের মুখে পড়েন ওসি মনিরুল। ফলে তিনি মামলা নিতে বাধ্য হন।