স্বরূপকাঠিতে এক ভুয়া ডাক্তারসহ ১২ প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতের দন্ড

হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ডাক্তার পদবী ব্যাবহার করায় ১ জন ভূয়া ডাক্তার, বাধা জাল ব্যবহারের অপরাধে ১৫ জেলে, নিশিদ্ধ জাল সংরক্ষন করায় ১ ভিটি মালিককে কারাদন্ড ও একটি মিষ্টির দোকানকে জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার বিকেলে ও মঙ্গলবার সকালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন । মঙ্গলবার বিকেলে সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেনের নেতৃত্বে আদালত মিয়ারহাট বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সমর কান্তি সমদ্দার নামের এক হাতুড়ি চিকিৎসককে ডাক্তার পদবী ব্যাবহার করার অপরাধে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। মিয়ারহাট বাজারের পাশে বেপারী বাড়ি এলাকায় ফারুক মিয়ার ভাড়া বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক লক্ষ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেন। এসময় কারেন্ট জাল রাখার জন্য ফারুক মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও ওই বাজারের নিত্যনন্দ মিষ্টির দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সোমবার সকালে উপজেলা মৎস্য অফিসার এম এম পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশ সন্ধ্যা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার মিটার বাধা জাল ও ১ মন পোনা মাছ সহ ১৫ জেলেকে আটক করে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কাওছার হোসেনের আদালতে হাজির করলে আদালত প্রত্যেক জেলেকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। কারাদন্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন গোবিন্দ, স্বপন, গৌতম, তরিকুল ইসলাম, সুকেশ হালদার, তপন হালদার, অসীম হালদার, সুমন ডাকুয়া, নিখিল হালদার, অমৃত হালদার, মো. জলিল, গনেশ হালদার, সুভাষ মল্লিক, সমিরন হালদার, বিমল মল্লিক। জব্দকৃত পোনা মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ওই আদালত পৃথক পৃথকভাবে মিয়ারহাট ও ইন্দুরহাট বন্দরের ৪টি ফলের দোকানসহ ১১টি বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনসহ বিভিন্ন আইনে ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় র‌্যাব ৮ এর ক্যাপ্টেন মো. খালেদ,বিএসটিআই বরিশালের পরিদর্শক রঞ্জিত কুমার মল্লিক,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএম পারভেজ, বিএসটিআইয়ের সহকারি পরীক্ষক মো. ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালত কেমিক্যাল মিশ্রিত প্রায় ২০ মন আমসহ বিভিন্ন ফল ধ্বংস করে।