লাউয়াছড়ায় গাছ চোরদের সাথে খাসিয়াদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

0
(0)

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি//
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পুঞ্জি সংলগ্ন মাঠে আগর গাছ কেটে খন্ডাংশ করে গাছ চোর দল। পরে খাসিয়া পুঞ্জির লোকজন বাঁধা দিলে ৩০/৪০ জনের সশস্ত্র চোরদলের সাথে ধাওয়া পাল্টা হয়। ধাওয়ার পর কেটে ফেলা গাছের খন্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাউয়াছড়া বিট কর্মকর্তা বিষয়টি জেনেও কর্নপাত করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, উদ্যানের লাউয়াছড়া পুঞ্জি সংলগ্ন মাঠের আগর বাগান থেকে প্রায় তিন ফুট বের একটি আগর গাছ কেটে খন্ডাংশ করে গাছ চোর দল। টের পেয়ে খাসিয়া চকিদার তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের বিষয়টি অবগত করলে খাসিয়ারা গাছ চোরদের বাঁধা দেন। এ সময়ে গাছ চোর দল খাসিয়াদের ধাওয়া করলে খাসিয়ারাও পাল্টা ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে গাছ চোরেরা পিছু হটলে খাসিয়ারা কেটে ফেলা আগের গাছের ৯টি খন্ডাংশ উদ্ধার করেন। প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতা আগর গাছের এই গুড়া এখন কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।
লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী ও খাসিয়া ছাত্র পরিষদের নেতা সাজু মারচিং জানান, রাতে চোরদের ধাওয়া খেয়ে পাল্টা ধাওয়া করে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করে আগর গাছের খন্ডাংশগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের মোবাইল বন্ধ পেয়ে তার অফিসে রুবেল, রেসলি, ফর্মান, নাসির সহ আমাদের চার সদস্যকে পাঠিয়ে বিষয়টি অবগত করালে তিনি ঘুম থেকে উঠে বলেন পরে দেখা যাবে। অথচ এ সময়ে ভিলেজার সহ অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।
লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন সম্প্রতি এ উদ্যাগে গাছচোর চক্র সক্রিয় থাকলেও বনবিট কর্মকর্তার ভূমিকা রহস্যজনক। আর এক একটি আগর গাছ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বলে গাছচোরদের দৃষ্টি এখন এ আগর বাগানের দিকে। লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়া ছাত্র নেতা সাজু মার্চিয়াং অভিযোগ করে বলেন, গাছ কাটার কথা শুনে রাতে ঝুঁকি নিয়ে খাসিয়া পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসে। তখন লাউয়াছড়া বনবিট (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি সকালে আসবেন রাতে আসতে পারবেন না বলে জানান।
পরে বিষয়টি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিসুর রহমানকে অবহিত করা হলে ভোর সাড়ে ৫টায় বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বনকর্মীদের নিয়ে এসে রক্ষা করা আগর গাছের খন্ডাংশগুলি উদ্ধার করে নেন। এ সম্পর্কে খাসিয়া সদস্য সাজু মার্চিয়াং আরও বলেন, সময়মত সশস্ত্র বনকর্মীদের নিয়ে বনবিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে হয়তো ২/১জন গাছ চোরকে আটক করা যেত।
এ সম্পর্কে জানতে চেয়ে লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগোযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিসুর রহমান মুঠোফোনে কেটে নেওয়া আগরগাছ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বনকর্মীরা গাছটি উদ্ধার করেছে। লাউয়াছড়া বনিবিট কর্মকর্তার উপর খাসিয়া সদস্যদের অভিযোগ সম্পর্কে সহকারী বন সংরক্ষক বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.