গৌরনদীতে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

গৌরনদী প্রতিনিধি//
মঙ্গলবার ভোররাতে নামের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের নাজমা আক্তার (২৭) এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা না আতœহত্যা তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধুর স্বামীর পরিবারের দাবি এটি আতœহত্যা। আর তার পিতা-মাতা বলছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
গৃবধুর মা পার্শ্ববর্তি কালকিনি উপজেলার চর পালরদী গ্রামের হালিমা বেগম জানান, তার মেয়ে নিহত নাজমা আক্তার মাত্র দেড় বছর পূর্বে ভালবেসে পরিবারের অমতে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের মৃত সেলিম মৃধার ছেলে জাহিদুল হাসানকে বিয়ে করে। স্বামী জাহিদ ছিলে নেশাখোর। সে নেশা করে প্রতিদিন বাড়িতে নাজমাকে মারধর করত। সম্প্রতি নাজমা তাকে ফোন করে জানায় যে মা তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও না হলে ও আমাকে মেরে ফেলবে। এর একাধিক বার তিনি তার মেয়ে নির্যাতিত নাজমাকে ফিরিয়ে নিতে গেলে ম্বশুর বাড়ির লোকজন নাজমাকে নিতে দেয়নি। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে জাহিদের স্বজনরা ফোন করে তাদেরকে জানায় যে নাজমা মারা গেছে। ওই রাতে ছুটে এসে তারা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাজমার লাশ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন তার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অপর দিকে ঘটনার পরপরই নাজমার স্বামী জাহিদুল ও তার মা জাহেদা বেগম আতœগোপন করেছে। এর আগে জাহিদুল ও তার মা তাদের প্রতিবেশীদেরকে জানিয়েছে নাজমা ওইদিন গভীর রাতে তাদের বসত ঘরের পেছনের বারান্দার আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেয়। ঘটনা টের পেয়ে তারা সেখান থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে নামিয়ে এনে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে নাজমা মারা যায়। গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি অপমৃতু মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশের পোর্ষ্ট মর্টেম রিপোর্ট পেলে জানা যাবে ঘটনাটি হত্যা না আতহত্যা।