সিন্ডিকেট দিয়ে ছাত্রলীগ চলবে না: ওবায়দুল কাদের

0
(0)

আবদুল্লাহ আল নোমান//
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো সিন্ডিকেট দিয়ে ছাত্রলীগ চলবে না। ত্যাগী, মেধাবী ও চরিত্রবান নেতারাই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্রলীগ চলবে। এর বাইরে কোনো চিন্তা-ভাবনার সুযোগ নেই।
রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
ঢাবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
সম্মেলনে ছাত্রলীগের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগকে তার অতীত ধারায় ফিরে আসতে হবে। টাকা পয়সা দিয়ে কর্মী বানাবেন না। তারা পরবর্তীতে থাকবে না। দলের জন্য ত্যাগী, মেধাবী, চরিত্রবান ও যোগ্যদেরকেই নেতৃত্বে আনবেন। কারোর পকেট ভরে কমিটি দিলে চলবে না। আপনি এখন নেতা। যখন আপনি বিদায় নিবেন তখন নতুনরা আপনাকে কি হিসেবে চিনবেন সেটা নিয়ে একটু ভাববেন। টাকা পয়সা দিয়ে নেতা বানালে তারা আপনাদের দিকে চেয়েও তাকাবে না। আপনি বিদায় নিলে আপনার পেছনে শুধু আদর্শের কর্মীরাই থাকবে।
তিনি বলেন, ত্যাগী, মেধাবী ও চরিত্রবানরাই ছাত্রলীগের আগামী দিনের নেতৃত্বে আসবে। কোন ধরণের অনুপ্রবেশকারী ও পরগাছা যেন নেতৃত্বে না আসতে পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কারও প্রতি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যাতে দলের প্রতি প্রতিশোধ না হয়ে যায়। দল না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তোমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে দরকার, সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে।
বিএনপিকে উদ্দেশে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন আদালতের দণ্ড নিয়ে। সেটা নিয়েও বিএনপি রাজনীতি করছে। যেন সরকার খালেদা জিয়ার নামে মামলা দিয়েছে। আমরা তাকে দণ্ড দেইনি, দণ্ড থেকে তাকে মুক্তও করতে পারবো না। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও জেল কোড আছে। অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা আছে। তিনি অসুস্থ হলে জেলকোড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। তিনি কতটা অসুস্থ তা আমি জানি না। সেটা চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তবে সেখানে তো জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকও থাকতে পারেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারেক জিয়া মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। সেই মুচলেকাতে তিনি লিখেছেন যে, তিনি আর রাজনীতি করবেন না। আমাদের কাছে সেই কাগজপত্র আছে। সেই সময় তিনি বিদেশে গেলেন চিকিৎসা নিতে। এখন বলেন রাজনৈতিক আশ্রয়। হাতের তালু দিয়ে তো আর আকাশ ঢাকা যায় না। সত্যকে কখনো চাপা রাখা যায় না।
বিএনপি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছেন উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আপনাদের বারবার আলোচনার কথা বলেছিল। আপনারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখনো দলের নেতারা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতেছেন। আপনারাই তো আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির শাসনামলে হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছাড়া হয়েছে। পালিয়ে বেড়িয়েছে অনেকেই। কিন্তু আমরা কেউ দেশ ছাড়েনি। এ দেশেই আমরা রাজনীতি করেছি। যারা মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছে তাদের (তারেক জিয়া) নেতৃত্ব কেউ মানবে না।
এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশ দফা দাবি নিয়ে স্মরণিকা ও ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবি জানান।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.