স্বরূপকাঠিতে প্রাথমিক পরিক্ষায় ২০১৭ সালের প্রশ্ন দিয়ে ২০১৮ সালে পরীক্ষা

0
(0)

হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার করুন হাল বিরাজ করছে। ২০১৭ সালের প্রশ্ন দিয়েই ২০১৮ সালে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার গত ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার তৃতীয় শ্রেনীর পরীক্ষার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ ওই পরীক্ষার জন্য নতুন প্রশ্ন প্রনয়ন না করে ২০১৭ সালের প্রশ্ন হুবহু ছাপিয়ে তা দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ খবর ফেইসবুকে প্রচারিত হওয়ার পরে প্রশ্ন সংগ্রহ করে দেখা যায়। পুরো প্রশ্নের মধ্যে ২০১৭ কে ২০১৮ করা ছাড়া একটি দাড়ি কমাও পরিবর্তন করা হয়নি। একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, শিক্ষা অফিসে দায়সারা গোছের কর্মকান্ড চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা অফিসার না থাকায় সহকারী শিক্ষা অফিসার দায়ীত্বে থাকার ফলে এ শিথিলতা এসেছে বলে তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন উপজেলায় একজন সহকারী শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে পরীক্ষার প্রশ্ন প্রনয়ন কমিটি রয়েছে। তারা বিভিন্ন শিক্ষককে প্রশ্ন প্রনয়নের দায়ীত্ব দেন। প্রতিটি বিষয়ে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়। এরপর অপর এক সহকারী শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে মডারেট কমিটি রয়েছে। প্রতিটি ধাপে দায়ীত্ব পালনকারীদেরকে সম্মাানী দেওয়া হয়। প্রতিটি ধাপ শেষ করে যাছাই বাছাইয়ের পর প্রশ্ন ছাপাতে দেওয়ার নিয়ম। তৃতীয় শ্রেনীর ওই প্রশ্ন সংগ্রহ করেছেন সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহাদাৎ হোসেন। প্রতিটি বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন প্রনেতার কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করার কথা। যার একজন পঞ্চবেকি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, তার কাছে প্রশ্ন চাওয়া হলে তার তৈরি করা অনেক প্রশ্নের মধ্য থেকে একটি প্রশ্ন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন ওই প্রশ্ন তার কিনা তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান। ওই ক্লাষ্টারের দায়ীত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রশ্ন সংগ্রহ করে মাডারেট কমিটির কাছে একটি মাত্র প্রশ্ন উপস্থাপন করেছিলেন বলে মডারেট কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষা অফিসার ইলিয়ার আলী জানান। তিনি বলেন মডারেট করেন শিক্ষকরাই। মডারেট কমিটির সদস্য কুনিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাসুদা বেগম জানান তার কাছে একটি মাত্র প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি বানান ভুল, ত্র“টি বিচ্যুতি সংশোধন করেছেন। পূর্বের প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ ছিল না। এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দিলদার নাহার’র সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীকে খুজে বের করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু সাঈদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাস করা হয়েছে। শিক্ষা অফিসার তাকে বলেছেন কে প্রশ্ন করেছেন তা চিহ্নিত করা গেছে। নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.