মঠবাড়িয়ায় ভাতিজার হাতে সাবেক ইউপি সদস্য চাচা খুন

0
(0)

হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক জমি-জমা সক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজা ও তার দলবল ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে নির্মম ভাবে খুন করেছে চাচা সাবেক ইউপি সদস্যকে। রোববার সকালে সাবেক ইউপি সদস্য লতীফ হাওলাদার ওরফে লতীফ ঘরামী (৫৫) কে উপজেলার আন্ধার মানিক তুলাতলা নামক স্থানে মটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রতিপক্ষ ভাতিজা ও তার দলবল কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। এসময়ে তার সাথে থাকা প্রতিবেশী ইদ্রিস হাওলাদারকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। গুরুতর আহত ওই লতীফ ঘরামী বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায় এবং ইদ্রীস আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। নিহত ইউপি সদস্য উপজেলার সদর ইউনিয়নের বকসীর ঘটিচোরা গ্রামের মৃত. আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে এবং ইদ্রিস আলেফ ঘরামীর ছেলে। এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, গত ৭/৮ বছর ধরে উপজেলার বকসীর ঘটিচোরা গ্রামের মৃত. মজিদ ঘরামীর ছেলে করিম ঘরামীর সাথে ছোট ভাই চার সন্তাদের জনক লতীফ ঘরামীর জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমি নিয়ে দু’পক্ষের আদালতে মারামারি সহ একাধিক মামলা বিচারাধিন। রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় লতীফ ঘরামী ও প্রতিবেশি ইদ্রিস অন্য একটি মামলায় পিরোজপুর জজ আদালতে হাজিরা দিতে বাড়ি থেকে দু’ কি.মি দূরে তুলাতলা নামক স্থানে এলে পূর্বে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা মরটসাইকেল থামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল হক সজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই দুইজনকে সড়কের পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুরুতর আহত ইদ্রিস ঘরামী জানান, নিহত লতীফ ঘরামীর বড় ভাই করিম ঘরামীর ছেলে আল আমীন, নাতী সজল ও জামাই সবুজ তাদেরকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। এসময় তাদের সাথে আরও ১৫/১৬ জন লোক ছিল। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ছরোয়ার জানান, ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব শত্র“তার জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে প্রতিপক্ষরা মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.