কলেজ ছাত্রী তান্নি হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি//
মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী ৭ মাসের অন্তস্বত্তা গৃহবধু তাসরিকা হক তান্নি (২২) কে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে কুলাউড়ার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল(৭ এপ্রিল) শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়।
কুলাউড়ার হাজীপুরের স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহের উদ্যোগে সকাল ১০ টায় কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়, সোয়া ১০ টায় হাজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাড়ে ১০ টায় নয়াবাজার কেসি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও পাবই রেলগেইট বাজার, সরিশতলাবাজার এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে। কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসুচীতে প্রধান শিক্ষক ফজল উদ্দিন আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এম এ মুহিত, হারুনুর রসিদ, নিহত কলেজ ছাত্রীর ভাই আজিজুল হক তামিম প্রমুখ।
নয়াবাজার কেসি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মানববন্ধন কর্মসুচীতে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্ছু, রেজাউর রহমান চৌধুরী, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি সমুজ আলী, অধ্যক্ষ প্রভাত চন্দ্র শর্ম্মা, সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী স্বামীসহ পরিবারের লোকদের অভিযুক্ত করেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ রাতে কমলগঞ্জের গোপালনগর রেল ক্রসিংয়ের পাশে রেল লাইনের উপর তান্নির খন্ডবিখন্ড মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি পুলিশ। রেল লাইনের পাশে তান্নির ব্যবহিৃত পরীক্ষার কাগজপত্র, বোরকা, পায়ের জুতা ও মোবাইলফোন গুছালো অবস্থায় পড়ে থাকে। তান্নি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের আনোয়ারুল হকের মেয়ে ও কমলগঞ্জের পতনউষার গ্রামের রাসেল আহমদের স্ত্রী। এ ঘটনায় তান্নির ভাই আজিজুল হক তামিম বাদি হয়ে গত ১ এপ্রিল মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তান্নির স্বামী, দেবর, শ্বাশুড়ীসহ ৬ জনকে আসামী করে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেন।