কলজে ছাত্রী তান্নি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনরে দাবিতে শ্বশুড়রে সংবাদ সম্মলেন

0
(0)

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গোপাল নগর রেলক্রসিং এলাকা থেকে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী তাসরিকা হক তান্নি এর খন্ডবিখন্ড মরদেহ উদ্ধার ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তান্নির শ্বশুড়। পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা গৃহবধু ও শিক্ষার্থী তান্নির মৃত্যু ঘটনায় বড় ভাই বাদি হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে হয়রানি মূলক পিটিশন মামলায় পরিবারের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে আসামী করায় মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে তিনি
অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলে ধরেন তান্নির শ্বশুড় মজবুল আলী।
তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় শ্বশুড় বাড়ির লোকদের দিকেই ইঙ্গিত করছেন তান্নির বড় ভাই আজিজুল হক তামিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসরিকা হক তান্নি (২৪) এর শ্বশুড় মজবুল আলী বলেন, পুত্রবধুর অনাকাঙ্খিত মৃত্যু ঘটনায় আমরা গোটা পরিবার সদস্যবৃন্দ মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও শোকাহত। গত ২৮ মার্চ তান্নি অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে গিয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় আর বাড়ি ফিরে আসেনি। দেরী দেখে আমরা খোঁজাখুঁজি শুরুর এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৭ টায় তান্নি তার নাম্বার থেকে স্বামী রাসেলের মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায় শমশেরনগর রেললাইন ধরে হাঁটছে। রাসেল বিষয়টি তান্নির বড় ভাই তামিমকে ফোনে জানায়।
এরপর সবাই মিলে খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৮টায় তামিম রেলপথে তান্নির খন্ডবিখন্ড লাশ দেখতে পায়। পাঁচ মাসের অন্ত:স্বত্তা তান্নির এ ঘটনায় দুটি প্রাণের অকাল মৃত্যুর ঘটনা শুনার পর আমাদের গোটা পরিবার মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি। তান্নির সাথে আমার পরিবার সদস্যদের সু-সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক কোন ঝামেলার কারনে তান্নির আত্মহত্যা করার প্রশ্নই উঠে না।
তান্নির মৃত্যু ঘটনায় গত ১ এপ্রিল তান্নির বড়ভাই আজিজুল হক তামিম বাদি হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানি করার মানসে তান্নির স্বামী রাসেল, মেঝ ছেলে শিক্ষক আলী মর্তুজা রুবেল, ছোট ছেলে আলী ইবতেজা, ভাতিজা কামরান
আহমেদ, মেঝ পুত্রবধু শিক্ষিকা তাসলিমা সুলতানা এবং রাসেলের মা নূরজাহান
বেগমসহ পরিবারের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করে।
আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তান্নির সাথে শ্বশুড় বাড়ির পরিবারের কারো সাথে কখনও কোন ধরনের মনোমালিন্য দেখা দেয়নি। অথচ মামলায় তান্নির দেবর শিক্ষক আলী মর্তুজা রুবেল ও মেঝ পুত্রবধু
শিক্ষিকা তাসলিমা সুলতানাকে লেখাপড়ায় বাঁধা দেয়ার সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তান্নির শ্বশুড় মজবুল আলী ।
তান্নির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তার মোবাইল কল চেক, ওই দিন তান্নির ব্যবহৃত গাড়ি পতনঊষারে না গিয়ে কিভাবে উপজেলা সদরে পৌঁছা, পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে কি-না, ভাই তামিমের সাথে কি ধরনের সম্পর্ক এসব বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিহত তান্নির ভাই আজিজুল হক তামিম বলেন, আমার বোনের স্বামী আলী ইবতেজা রাসেল, যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এর জের ধরে বোনের স্বামী ও তার সহযোগিদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্যাতনের পর প্রাণে হত্যা করে রেললাইনের উপর ফেলে দেয়।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.