কমলগঞ্জে দিনব্যাপী লোকজ উৎসব

ফটিকুল ইসলাম রাজু, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ১নং ভানুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “উৎসবের রঙে বাঁধি প্রাণের দোতরা” এই শ্লোগানকে ধারণ করে দিনব্যাপী লোকজ উৎসব-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করেন রমজান আলী বয়াতি ও মৌলভীবাজারে জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি এড. ডাডলী ড্যারিক প্রেন্টিস।
লোকজ উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক আহমদ সিরাজের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জহর লাল দত্তের পরিচালনায় লোকজ উৎসব -২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন লোক গবেষক ও সাবেক জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাহিত্যিক আকমল হোসেন (নিপু), জেলা উদীচীর সভাপতি এড. ডাডলী ড্যারিক প্রেন্টিস, সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাফিজ চৌধুরী(হিমু), কমলগঞ্জ উদীচীর সভাপতি অধ্যাপিকা মঞ্জুশ্রী রায়, সাধারন সম্পাদক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, ১নং ভানুবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী মো: জয়নাল আবেদীন, নারী নেত্রী শিক্ষিকা বিলকিছ বেগম প্রমুখ।
লোক-সংস্কৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্র। ফসল বোনার গান, ফসল তোলার গান, মাঝি-মাল্লার গান, নকিশকাঁথা, গ্রাম্য মেলা, পালা-পার্বন প্রভৃতি সবকিছুই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সম্পদ ছিল। আগে সম্প্রদায়গত বিভেদ থাকলেও তা কখনোই আগ্রাসী বা বিদ্বেষপূর্ণ ছিল না। পুঁজির ক্রমবিকাশ এবং বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার কারণে গ্রামীন সমাজ কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। গ্রামীণ জনজীবন ও আবহে গড়ে ওঠা লোকজ সংস্কৃতির চর্চাও ক্ষীয়মান। এ সুযোগে, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ ধর্মপ্রাণ মানুষের মনোজগতকে দখল করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। গ্রামীণ জীবনের অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে লোক-সংস্কৃতির সচেতন চর্চা এবং প্রয়োগের মাধ্যমে মৌলবাদ-জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করা সম্ভব বলে মনে করে উদীচী। লোক-সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের চিন্তাকাঠামো থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পকে দূর করা এবং মৌলবাদ-জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে কমলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম ভানুবিলে উদীচী মৌলভীবাজার জেলা সংসদ এ উৎসব আয়োজন করে। এ উৎসবে মাধ্যমে গ্রাম ও নগরের মানুষের মেলবন্ধন আরো দৃঢ় হয়ে দিনব্যাপী ছিল মহা মিলনমেলা।