পিরোজপুরের সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস দাবী

0
(0)

হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তড়িঘড়ি করে অনেকটা অগ্রহনযোগ্যভাবে পিরোজপুরের আসনের সীমানা বিন্যাস করা হয়। এতে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসন থেকে ইন্দুরকানিকে বাদ দিয়ে পিরোজপুর-২ থেকে আলাদা করে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলাকে পিরোজপুর-১ আসনে যুক্ত করা হয়। এতে সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ৩ টি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ আসনের ভোটার সংখ্যা দাড়ায় ৪১৪৮১৭ জন। গোটা দক্ষিনাঞ্চলে এত ভোটারের এবং বড় আয়তনের আসন আর দ্বিতীয়টি নেই। অপরদিকে ১ টি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা ১৮৭৩৩৬ জন। যা পিরোজপুর-১ এর অর্ধেকেরও কম। একই জেলায় ভোটারের এই ব্যাবধান অনেকটাই বেমানান এবং অগ্রহনযোগ্য। ইতিমধ্যে পিরোজপুর-১ আসনের বিন্যাস দাবী করে বিভিন্ন মহল থেকে বহু আবেদন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনের পূর্বে পিরোজপুরের আসন বিন্যাস করা অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ আসন গঠন করা যেতে পারে এতে ভোটার সংখ্যা হবে ২৭৯৭৮৮ জন। স্বরূপকাঠি ও নাজিরপুর উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসন গঠন করা যেতে পারে এতে ভোটার সংখ্যা হবে ২৯৫১৫২ জন। মঠবাড়িয়া ও ইন্দুরকানি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসন গঠন করা যেতে পারে এতে ভোটার সংখ্যা হবে ২৪২৭৫৫ জন। অথবা পিরোজপুর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ আসন গঠন করা যেতে পারে এতে ভোটার সংখ্যা হবে ৩০৬৯৫১ জন। নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ও কাউখালী উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসন গঠন করা যেতে পারে এতে ভোটার সংখ্যা দাড়াবে ২১৫৯৮৭ জন। মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসন গঠন করা যেতে পারে সেক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যা হবে ২৯৪৭৫৭ জন। এই দুটি পদ্ধতির যে কোন একটি পদ্ধতি অনুযায়ী আসন বিন্যাস করলে জেলার তিনটি আসনের ভোটার এবং ভৌগোলিক অবস্থান একটির সাথে অন্যটির প্রায় কাছাকাছি চলে আসবে। এ ব্যাপারে স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গঠন করা আসনের ফলে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জনগনের নানা ধরনের দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে । তাই আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এখানকার আসন নতুন করে বিন্যাস করা প্রয়োজন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফুয়াদ বলেন, নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে সকল এমপি সম পরিমান বরাদ্ধ পেয়ে থাকেন, একটি ছোট আসনের এমপির তুলনায় এত বড় আসনের এমপিও একই বরাদ্ধ পাওয়ায় এলাকায় তেমন কোন উন্নয়ন সম্ভব হয় না। এছাড়াও পিরোজপুর-১ আসনের বর্তমান ভৌগলিক অবস্থায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম কষ্টকর। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পিরোজপুর-১ আসনের বর্তমান বিন্যাসে ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিতান্তই অযৌক্তিক তাই ইসির কাছে নতুন করে যৌক্তিকভাবে আসন বিন্যাস দাবী করছি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যেভাবে আসন বিন্যাস করে উন্নয়ন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে জনগনের যে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তা থেকে পরিত্রানের জন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে আমাদের আশা। স্বরূপকাঠি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, একই জেলায় আসনের সীমানা এবং ভোটারের যে বৈষম্যর সৃষ্টি হয়েছে তা অগ্রহনযোগ্য। এটা দূরীকরেন এখানকার আসনের সীমানা বিন্যাস অতি প্রয়োজনীয়। বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. মহিবুল্ল¬াহ বলেন, পূর্বের ইসি কর্মকর্তারা যেভাবে আসন বিন্যাস করে আমাদের দূর্ভোগে ফেলেছেন তা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে নতুন ইসি কর্মকর্তাদের কাছে আসন বিন্যাস দাবী করছি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.