গৌরনদী প্রেসক্লাব এর সাবেক কর্মকর্তাসহ ৭ জনের সদস্যপদ চুড়ান্ত বাতিল

গৌরনদী প্রতিনিধি
পেশাগত অসদাচরন ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার সকালে দীর্ঘ ৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাব এর সাবেক কর্মকর্তাসহ ৭ জনের সদস্যপদ চুড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত গৌরনদী প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থিত প্রেসক্লার কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাতিল হওয়া ৭ জন হলেন, গৌরনদী প্রেসক্লাব এর সাবেক সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহির, সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ টুডের প্রতিনিধি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মোঃ জামাল উদ্দিন, সাবেক সাধারন সম্পাদক এশিয়ান এজ এর প্রতিনিধি খোকন আহাম্মেদ হীরা, সাবেক সহ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা মোঃ বদরুজ্জামান খান সবুজ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক খবরপত্রের প্রতিনিধি মনীষ চন্দ্র বিশ্বাস।
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সমকাল এর প্রতিনিধি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির জানান, সদস্যপদ বাতিল হওয়াদের সবাই পেশাগত অসদাচরনসহ গৌরনদী প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রকে অবমাননা, প্রেসক্লাবের সুনাম সুখ্যতি বিনষ্টকরা ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। তারা সম্পূর্ন মিথ্যা মনগড়া, কাল্পনিক ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রেসক্লাবের ২০১৭ সালের কার্যকরী কমিটির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা, রিপোর্ট প্রকাশ ও প্রচার করিয়ে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ ছাড়া গৌরনদী প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের আলোকে কোন প্রকার প্রমান বা ডকুমেন্ট উপস্থাপন ছাড়াই তারা প্রেসক্লাবের তৎকালীন কার্যকরী কমিটির কয়েকজন নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তা এবং সম্মানিত সদস্যের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে গঠনতন্ত্র বহির্র্ভূতভাবে ভোটার করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে গৌরনদী প্রেসক্লাব এবং ওই সদস্যগনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।
এ ছাড়া সর্বমোট ২০ সদস্যের গৌরনদী প্রেসক্লাবের ওই ৭ জন সদস্য ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৮ (আট) এর ধারা ০১ (এক) এর বিধান লংঘন করে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডস্থ জিডিএস কার্যালয়ে একটি অবৈধ সভা করেছেন। ওই অবৈধ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা তাদের যৌথ স্বাক্ষরে ওই দিনই ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও সম্পাদক বরাবরে একটি আবেদন করেন। যার বিষয় উল্লেখ করেন প্রেসক্লাবের অচল অবস্থা নিরসনের জন্য আবেদন। ওই আবেদনে তৎকালীন কার্যকরী কমিটিসহ বিগত ৩/৪টি কার্যকরী কমিটির রিরুদ্ধে মিথ্যা, মনগড়া, বানোয়াট ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলেন। সেই সাথে দাবি করেছেন ২০১৬ সালের অনুমোদিত গঠনতন্ত্র কার্যকর করে অসাংবাদিকদের বাদ দিয়ে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সঠিক ভোটার তালিকা করা না হলে তারা গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য পদসহ যাবতীয় সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর গৌরনদী প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। গৌরনদী প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও দৈনিক মানবকন্ঠের প্রতিনিধি মোঃ আহছান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্টের মতামতের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৮ (আট) এর ধারা ০১ (এক) এর ক্ষমতা বলে ওই ৭জনের সদস্যপদ সাময়িক ভাবে বাতিল করা হয়। সেই সাথে তাদের সদস্যপদ কেন চুড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে না, পরবর্তি ১৫ দিনের মধ্যে তার কারন দর্শানোসহ গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সম্পাদক বরাবরে তাদেরকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলে নোটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয় অসাংবাদিক বলতে তারা কি বুঝাচ্ছেন ? গৌরনদী প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে কে বা কারা সেই অসাংবাদিক ? ৭জন সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে করা আবেদনে তারা যে ৫টি বিষয় অভিযোগ আকারে উপস্থাপন করেছেন তার উপযুক্ত তথ্য, প্রমানপত্রসহ তাদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। নোটিশে আরো বলা হয়, বিগত ২০১৬ সালের বার্ষিক সাধারন সভায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের কোন গঠনতন্ত্র অনুমোদন হয়নি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য। ওই সাধারন সভা গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ কমিটিকে অতিরিক্ত সময় দিয়েছিল পরবর্তিতে গঠনতন্ত্র সংশোধনে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার আয়োজনটি বিধিসম্মত ভাবে না হওয়ায় গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ কমিটির প্রধান ওই সভায় যোগ দেননি। ফলে সভার কার্যক্রম মূলতবি করা হয়েছিল। এরপর গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ কমিটির আর কোন সভা না হওয়ায় সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যে কোন সময় তা সম্পন্ন হবে এবং অতি শিঘ্রই হবে। তবে এর জন্য-তো প্রেসক্লাবের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। প্রেসক্লাব পরিচালনায় কোন প্রকার অচল অবস্থা দেখা দেয়নি। বর্তমান গঠনতন্ত্রসহ প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারন সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত সমুহ ও সংশোধনী সমূহের আলোকে স্বগৌরবে এবং বেশ সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে গৌরনদী প্রেসক্লাবের কার্যক্রম।
গৌরনদী প্রেসক্লাব এর তৎকালীন সভাপতি মোঃ আহছান উল্লাহ, সাধারন সম্পাদক এস,এম জুলফিকার স্বাক্ষরিত ওই কারন দর্শানো নোটিশটি গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস যোগে ওই ৭ জনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। তারা ওই নোটিশটি গ্রহন না করে ফেরত পাঠান। এরপর গৌরনদী প্রেসক্লাব এ বছরের ১৬ জানুয়ারী গৌরনদী পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে একনলেজমেন্ট রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে পূনঃরায় নোটিশ ৭াট তাদের ঠিকানায় পাঠায়। এবারও তারা নোটিশগুলো গ্রহন না করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
এ অবস্থায় বুধবার সকাল ১০টায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় বিষটি উত্থাপিত হয়। সভায় উপস্থিত সকল সদস্যগন একমত পোষন করেন যে, ওই ৭জন তাদের নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে গৌরনদী প্রেসক্লাব বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন। তারা এখনও গৌরনদী প্রেসক্লাবের স্বার্থ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। ফলে সভায় উপস্থিত গৌরনদী প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্যগনর মতামতের ভিত্তিতে প্রেসক্লাব এর গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৮ (আট) এর ধারা ০১ (এক) এর ক্ষমতা বলে কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ওই ৭জনের গৌরনদী প্রেসক্লাব এর সদস্যপদ চুড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়।