গৌরনদীতে ছাত্রকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্যাতন ও পয়জনিংয়ে অজ্ঞান করার অভিযোগ

গৌরনদী প্রতিনিধি,
অশ্রের মুখে জিম্মি করে বরিশালের গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের বালুর মাঠে নিয়ে কাইদে আযম (১৫) নামের পার্শ্ববর্তি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোসহ পয়জনিং করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আহত স্কুল ছাত্রের নানা গৌরনদী উপজেলা সদরের উত্তর বিজয়পুর গ্রামের মোঃ হারুন অর রশিদ উকিল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌরনদী প্রেসক্লাবে দেয়া এক আবেদনে হারুন অর রশিদ উকিল জানান, তার মেঝ মেয়ের বড় ছেলে পার্শ্ববর্তি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসাইল গ্রামের আবু আলম মৃধার ছেলে বাসাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র কাইদে আযম গত ১৫ জানুয়ারী তার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ২০ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেলিকপ্টার যোগে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এসে নামেন চলচিত্র নায়ক অনন্ত জলিল। এ সময় তাকে দেখতে সেখানে ছুটে যায় তার নাতি নবম শ্রেনীর স্কুল ছাত্র কাইদে আযম। এর পর সে নিখোজ হয়। অনেক খোজাখুজির পর ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের বালুর মাঠে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে, সেখান থেকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসার পর তার জ্ঞান ফিরে আসলে কাইদে আজম জানায় তার নিজ গ্রামের প্রতিবেশী মৃত আবুল হাওলাদারের ছেলে মিলন হাওলাদার (২২) কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে অস্ত্রের মুখে জোর পূর্বক তাকে বালুর মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেদম মারধোর করে। এরপর তার মুখমন্ডলে অজ্ঞান করার ঔষধ নিক্ষেপ করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় গত ২১ ডিসেম্বর সকালে হারুন উকিল গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ গত ১০ দিনেও এ ঘটনায় কোন মামলা নেয়নি।
হারুন অর রশিদ উকিল অভিযোগ করেন, গত ১০ দিন ধরে থানার এসআই মোস্তফা মনির আমাদের সাথে নানা তাল বাহানা করছে, কিন্তু মামলা নিচ্ছেনা।
অভিযোগ দায়েরের দিন গৌরনদী মডেল থানায় দ্বায়িত্বরত ডিউটি অফিসার মোঃ মোস্তফা মনির জানান, এ ঘটনায় থানায় হাতে লেখা একটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন আহত স্কুল ছাত্র কাইদে আযমের সাথে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি স্কুল ছাত্রের স্বজনদের কম্পিউটারে টাইপ করা একটি এজাহার লিখে নিয়ে থানায় যেতে বলে আসেন। এর পর তারা আর থানায় আসেনি।