গৌরনদীতে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী শেষ

গৌরনদী প্রতিনিধি
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা পাওয়ার একদফা দাবিতে বরিশালের গৌরনদীতে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ফলে টানা তিনদিন ধরে নাগরিক সেবা ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এ পৌরবাসীর জনদুর্ভোগের আপাতত সাময়িক অবসান হল।
জানাগেছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা পাওয়ার একদফা দাবিতে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের ডাকে তাদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীগন গত রোববার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা তিনদিন ধরে অফিসিয়াল সকল কাজকর্ম বন্ধ রেখে পৌরসভা চত্বরে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছিল এ পৌরসভার সকল দাপ্তরিক কাজকর্ম। এর ফলে এ পৌরসভার সাধারন নাগরিকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার পাশাপাশি টানা তিনটি দিন তাদের প্রাপ্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন দিনব্যাপী এ আন্দোলন কর্মসূচীর শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় গৌরনদী পৌরসভার সচিব ও পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক, জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও গৌরনদী পৌরসভার সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, গৌরনদী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বাদশা মিয়া, গৌরনদী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি খোকন চন্দ্র রায়, মিজানুর রহমান তালুকদার, বরিশাল জেলা শাখার সদস্য ও গৌরনদী পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মামুন-অর-রশিদ, গৌরনদী উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও গৌরনদী পৌরসভার কর আদায়কারী কে,এম মোশাররফ হোসেন, বরিশাল জেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী শফিকুর ইসলাম স্বপন, মোঃ মফিজ সেরনিয়াবাত ও ডলি রানী বনিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সকল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীগন দিন-রাত জনসাধারনের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ ছাড়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে বাংলাশের সকল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এত পরিশ্রম করার পরও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২,৫,৬ মাস পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, যা খুবই দুঃখজনক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সফল করতে হলে দেশের সকল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পাওয়া উচিৎ। তাদের এ ন্যায় সঙ্গত দাবিকে মেনে নেয়ার জন্য তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান। অন্যথায় তারা আরো কঠিন, কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, পূর্ন দিবস কর্মবিরতি অবস্থান কর্মসূচী পালনের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচীতে গৌরনদী পৌরসভার সর্বমোট ১০৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহন করেন।