কমলগঞ্জে ঠান্ডাজনিত কারনে বাড়ছে সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ

0
(0)

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কুয়াশা ও ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে নি¤œআয়ের মানুষেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বস্তি এলাকার নি¤œআয়ের লোক, চা বাগানের শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধ পুরুষ মহিলারা শীত নিবারনে গরম কাপড়ের অভাবে দু:খ-কষ্টের মধ্য দিয়েই জীবন ধারন করছেন। বাগানের কলোনী সমুহে গাদাগাদি পরিবেশে রোগ-শুকে অভাব অনটনের সংসারে বাসস্থান সংকট, গরম কাপড়ের অভাবে শীতে তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে ঠান্ডায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ঠ ও নিউমোনিয়া রোগের উপদ্রবও বাড়ছে। উপজেলার শমশেরনগর, দেওছড়া, পীরেরবাজার ও পতনঊষারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়াা যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শনিবার ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাট অন্ধকারাচ্ছন্ন। কাজের সন্ধানে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। যানবাহনে লাইট জ্বালিয়ে যাতায়াত করছে। চা বাগান ও বস্তির বিভিন্ন এলাকায় মৃদু বাতাসে নি¤œবিত্ত পরিবার সদস্যরা কাভু হয়ে পড়ছেন। পুরানো কাথা, কম্বল দিয়ে ঘরে কিংবা ঘরের বাইরে খড়খুঁটো জ্বালিয়ে শরীরে আগুনের উত্তাপ পোহাচ্ছেন। শরীর একটু গরম করেই কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছেন। খাবার সংগ্রহের জন্য জ্বালা যন্ত্রনা নিবারনে তীব্র শীতকে মোকাবেলা করেও ঠান্ডায় কাজে বেরুচ্ছেন। প্রচন্ড শীতের এই মৌসুমে সব মিলিয়ে বস্তি ও চা বাগানের নি¤œ আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, আসলে গরম কাপড় আর অভাব অনটনে চা বাগানের শ্রমিকরা খুবই দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রয়েছে। চা বাগানে না আসলে তা প্রত্যক্ষ করা সম্ভব নয়। এই শীতে চা বাগানে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ বেড়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, গরম কাপড়ের জন্য বাগান ব্যবস্থাপক বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া বাসগৃহের অবস্থাও ভাল নেই। ঠান্ডা মোকাবেলায় গরম কাপড়ের অভাবে চা বাগানের মানুষের নাজেহাল অবস্থা।

মৌলভীবাজারের পরিবেশ কর্মী নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, এই শীতে কমলগঞ্জে চা শ্রমিক, শব্দকর, ভূমিহীন সহ নি¤œবিত্ত পরিবার সদস্যরা গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট ভোগ করছেন। নি¤œবিত্ত পরিবারের উপার্জন কম থাকায় তারা তিন বেলা খাবার সংগ্রহ করতেই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তারা গরম কাপড়ের জন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার দিকে চেয়ে থাকে। এটি খুবই দু:খজনক বিষয়। এদিকে চা বাগান ও বস্তির লোকজন জানান, সম্প্রতি ঠান্ডায় শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতাল, চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার, হাটবাজার ও বস্তি এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে তারা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।

উপজেলার পল্লী চিকিৎসক দিপক রঞ্জন মল্লিক ও নূরুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডাজনিত পাতলা পায়খানা, বমি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া রোগে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া সর্দি, জ্বর বাড়ছে। তবে ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইয়াহিয়া বলেন, সরকারি চিকিৎসা ও নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন থাকায় এখনও ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পায়নি। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.