পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

0
(0)

আজিজুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার//
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল শুরু করেছিল, যারা এদেশের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি, পাকিস্তানের সেই প্রেতাত্মারাই বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়, শিক্ষা দেয়। আজ ৭ মার্চের ভাষণ স্বীকৃতি পেয়েছে।
১৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয়াকে কেন্দ্র করে এক নাগরিক সমাবেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে ইউনেস্কো। অথচ একসময় এই ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। যারা এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলো, তাদের কী লজ্জা হয় না, তাদের কী ঘৃণা হয় না। তারা তো পাকিস্তানি প্রেতাত্মা। তাদের জন্যই একটি বিজয় জাতি বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারেনি, এর চেয়ে দুভার্গ্য হয় না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক নেতাই অনেক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণগুলো ছিল লিখিত। একটি মাত্র ভাষণ যার কোনো লিখিত ছিল না। এমনকি নোটও ছিল না। প্রতিটি কথাই তিনি বলে দিয়েছিলেন। একটি জাতিকে তিনি জাগ্রত করেছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে। সেদিনের ভাষণের কথা মনে হলেই আমার মনে পড়ে আমার মায়ের কথা। অনেক লিখিত বক্তব্য বাবার হাতে দেয়া হয়েছিল। মা বাবাকে বলেছিল, তুমি সেই কথা বলবে, যা তোমার মনের কথা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশের নাগরিক সমাজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব করেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এ বছরের ৩১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানায়, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে’ যুক্ত হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.