নিরীহ লোককে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে হয়রানি

0
(0)

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামী হিসেবে নামের মিল থাকায় পুলিশ নিরীহ লোককে গ্রেফতার করে হয়রানী, আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ( ১৮ নভেম্বর) শনিবার দুপুওে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির শমশেরনগরস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবী জানিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলার কেওলাকান্দি গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেন। তবে কুলাউড়া থানার এসআই সাব্বির বলেন আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী হিসাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বড় ভাই নূরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে থানায় কিংবা আদালতে কোন ধরনের মামলা-মোকদ্দমা নেই। কুলাউড়া উপজেলার রাতগাঁও ইউনিয়নের বাগাজুড়ী গ্রামের জামাল আহমদ লেদু বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৫ মে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমুলী গ্রামের মন্তাজ আলীর পুত্র নূরুল ইসলাম (২৫)-কে আসামী করে মৌলভীবাজার আদালতে (সি,আর-৬৫/১৫-কুলাউড়া) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে আসামী মোঃ নূরুল ইসলামকে দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। আদালত কর্তৃক রায়ের ঐ আদেশ কার্যকর করার জন্য কুলাউড়া থানায় প্রেরণ করা হয়।
নামে মিল থাকায় পৃথিমপাশা ইউনিয়নের প্রকৃত আসামীর পরিবর্তে কুলাউড়া থানার এসআই মো. সাব্বিরসহ পুলিশ সদস্যরা গত ১১ নভেম্বর রাতে হাজীপুর ইউনিয়নের কেওলাকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আমার বড় ভাই মোঃ নূরুল ইসলাম (৪৭)কে গ্রেফতার করে কুলাউড়া থানায় নিয়ে যান। নামের ভূলবশত: বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কুলাউড়া থানায় গিয়ে আসামী বহির্ভূত আমার ভাইকে গ্রেফতার না করার জন্য মামলার বাদিসহ পুলিশকে বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলা সত্ত্বেও ঐ রাতেই পুলিশ তড়িঘড়ি করে আমার ভাইকে গ্রেফতার করে আমাদেরকে হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি ও এলাকায় মানহানি ঘটান। পরদিন ১২ নভেম্বর আদালতে প্রেরণ করার পর মামলার বাদি জামাল আহমদের সহায়তায় আদালত থেকে জামিনে নিয়ে আসি।
সংবাদ সম্মেলনে মো: আলমগীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় আমি গত ১৪ নভেম্বর মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার আসামী ছাড়াই আমার নিরীহ ভাইকে গ্রেফতার ও হয়রানি বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মামলার বাদী মো. জামাল আহমদ লেদু এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে প্রকৃত আসামী মো: নূরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। হরানীর শিকার কেওলাকান্দি গ্রামের মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, নাম ও ঠিকানার ভূলের বিষয়টি বারবার বলার পরও পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে সামাজিকভাবে মানহানি করায় সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন। তিনি বলেন, আমাকে পুলিশী গ্রেফতারের কারণে আমার সন্তানরা স্কুলে গিয়েও নানাভাবে অহেতুক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার এসআই মো: সাব্বির জানান, আদালত থেকে আসা ওয়ারিন্টের কাগজে ভূলের কারণে কেওলাকান্দি গ্রামের নূরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখানে আমার কিছুই করার ছিল না। আমি আদালতের ওয়ারেন্টমূলে তাকে গ্রেফতার করেছি। পরে আদালত থেকে পূনরায় প্রকৃত আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.