হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী (রহ:)-

0
(0)

((মুহম্মাদ আহছান উল্লাহ)) = +হিজরী পঞ্চম শতাব্দী+ মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমানের জন্য এই হিজরী ছিল অগ্নি পরীক্ষার সময়।এতে নতুন নতুন গোমরাহীর প্রচলন হচ্ছিল।প্রচলিত রসুম-রেওয়াজকেই প্রকৃত ধর্ম বলে মনে করা হতো।মুসলমানগন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।ধর্মের শাখা-প্রশাখাসমূহকে ধর্মের মুল বিষয় মনে করে একে অপরকে কাফির তথা বেদ্বীন বলে আখ্যায়িত করতো।আর এহেন আত্মকলহ দ্বারা ইসলামের ভীষণ ক্ষতি সাধিত হচ্ছিল।অন্যদিকে গ্রীক ফারসাফা (দর্শন) মতবাদের প্রভাব দিক-দিগন্তে ছড়িয়ে গিয়েছিল।আর ইসলামী ধ্যান-ধারণা নিষ্প্রাণ ও নিস্তেজ হতে লাগল।তখনকার মুসলিম আলেমগণ গ্রীক দর্শনে অনভিজ্ঞ ছিলেন বিধায়,তাদের দার্শনিক ভ্রান্তির প্রতিরোধে অক্ষম ছিলেন।ফলত: পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত মুসলিম রাজ্যসমূহের লোকদের চরিত্র ও নিয়ম-নীতি ইসলামী তাহজীবের বাহিরে চলে গেল।কালক্রমে এমন অবস্থার উদ্ভব হলো যে,তখনকার জ্ঞানী-গুণী,ধনী-দরিদ্র সকল শ্রেণীর মানুষ কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন গঠনের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল।
এটা সে সময়ের কথা যখন ইমাম গাযযালী (রহ:) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।যে সমস্ত কারণে ইসলামের ক্ষতি সাধিত হচ্ছিল এ ক্ষণজন্মা পুরুষ সে গুলির মূলোৎপাটন করেছিলেন। আর গ্রীস দর্শনের ভ্রান্ত মতবাদ যেগুলো চতুর্দিকে ছড়িয়ে গিয়েছিল তিনি সেগুলোর গোড়াতেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং এর স্থলে রাসূলের শিক্ষা তথা ইসলামের মূল বিষয়গুলো এমন অভিনব পদ্ধতিতে চালু করেছিলেন যদ্দ্বারা ইসলামের মহব্বত মানুষের অন্তরে বন্ধমূল হয়েছিল। ইসলাম তথা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন চরিত জনসম্মুখে এমনভাবে তিনি তুলে ধরেছিলেন যে, মনে হচ্ছিল যে অতীতের সে সোনালী যুগ আবারও আয়নার মত চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এসব কিছুই ছিল ইমাম গাযযালী (রহ:)-এর কৃতিত্ব, যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা অবদান অন্য কথায় সামান্য ধারণা মাত্র পাঠকদের খিদমতে তুলে ধরা হচ্ছে।
*নাম ও বংশ পরিচয়*
এই মহান ব্যক্তিত্বের নাম হলো মুহাম্মদ, উপাধি ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ তবে ইমাম গাযযালী নামেই তিনি খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তাঁর পিতার নামও ছিল মুহাম্মদ এবং দাদার নাম আহমদ। তিনি খোরাসানের তাহেরান নামক স্হানে চারশত পয়তাল্লিশ হিজরীতে জন্মলাভ করেন।
*গাযালী বা গাযযালী
নাম প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ*
আরবী ভাষায় ‘গাযল’ অর্থ সুতা কাটা। তাঁর বংশের লোকজন সুতার ব্যবসা করতো এ কারণেই তিনি গাযযালী নামে প্রসিদ্ধ লাভ করেন। কারো মতে তিনি ছোটবেলায় হরিণের মত সুন্দর চক্ষুবিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন। আর গাযাল অর্থ হলো হরিণ। তাই মাতা-পিতা তাঁকে শৈশবে আদর করে গাযযালী বলে ডাকতেন এবং পরবর্তীতে এ নামেই তিনি প্রসিদ্ধী লাভ করেন।
উপরোক্ত উভয় বর্ণনা অনুসারে তাকে গাযালীও বলা হয় আবার গাযযালীও বলা হয়।
___ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর পিতা তেমন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না সে কারণে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত ছিলেন, তিনি যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত তখন তার ঘনিষ্ট এক বন্ধুকে ডেকে আপন ছেলে ইমাম গাযযালী ও তার ছোট ভাই ইমাম আহমাদ গাযযালীকে তার হাতে সুপর্দ করলেন আর বললেন, “ভাই, ইলম না শেখার কারণে তো আমার সারাটি জীবন আফসোস করে কেটে গেল । এখন আমার দুটি ছেলেকে আপনার দায়িত্বে অর্পণ করলাম, আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে, আপনি তাদের শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখবেন । তারা যেন আমার মত অশিক্ষিত থেকে না যায় ।” অতঃপর তিনি তাদের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহের জন্য সামান্য কিছু টাকা দিয়ে দিলেন ।
___শিক্ষাজীবন___

__তখন সে বন্ধু তার সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে বললেন- “আপনি নিশ্চিত থাকুন, ইনশাআল্লাহ আমি তাদের শিক্ষা দীক্ষার ব্যাপারে সম্ভাব্য সবধরণের চেষ্টা-তদবীর চালিয়ে যাব।” এর দু-একদিন পরেই ইমাম গাযযালীর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। পিতার বন্ধুর তত্ত্বাবধানে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অনেক কিছু শিক্ষা করলেন। এদিকে পিতার দেওয়া টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেল। আবার পিতারবন্ধুরও তাদের লেখা-পড়ার ব্যয়ভার বহন করার মত সামর্থ্য ছিল না। সেজন্য তিনি অত্যন্ত চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লেন এবং শেষে নিরুপায় হয়ে একদিন দুই ভাইকে ডেকে বললেন- “তোমরা জান তোমাদের পিতা তোমাদের শিক্ষার ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন এবং এর জন্য কিছু টাকাও দিয়েছিলেন। সে টাকা শিক্ষা খাতে খরচ হচ্ছিল, এখন সে টাকা শেষ হয়ে গেছে। আর তোমাদের ব্যয়ভার চালানোর মত আর্থিক সামর্থ্য আমার নাই। যদি অন্য কোন উপায় থাকত তবে আমি তোমাদের পড়া-লেখা বন্ধ হতে দিতাম না কিন্তু আমি নিরুপায়। তাই এখন অন্য পথ অবলম্বন করতে হচ্ছে। তাহলো তোমরা অন্য কোন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যাও।”

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.