কোন পথে সৌদি আরব?

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার দেশকে আমূল বদলে দিতে চান। কিন্তু আবেগী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অনভিজ্ঞ এই যুবরাজের সফলতার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানির ডিডব্লিউ।
বাদশাহ সালমান কার্যত দেশের ক্ষমতা প্রিয় ছেলের হাতেই তুলে দিয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও তিনি পেট্রোলিয়াম কোম্পানি আরামকো ও দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী পদও তার দখলে ছিল। সৌদি আরবের মতো একটি দেশ, যা দীর্ঘদিন ধরে সারা পৃথিবীর সাংস্কৃতিক পরিবর্তন থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে, দুই শতক ধরে যে দেশে ওহাবিজমের মতো কট্টর ইসলামী ধ্যান-ধারণা প্রচলিত, সেখানে এমন পরিবর্তনের সুর বিস্ময়কর। কিছুদিন আগেই নারীরা গাড়ি চালানোর অধিকার পেয়েছেন। রেড সিতে পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে, যার অর্থ নারীরা সেখানে বিকিনি পরতে পারবেন, উন্মুক্ত থাকবে বার। পরিবর্তনের এমন সুর কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়। অবশ্য সৌদি যুবরাজের এই উদারপন্থি মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করছেন অনেকে। একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হটানোর কৌশল ভাবছেন অনেকেই। অনেকেই আবার বলছেন, এটা দেশে বিনিয়োগের আকর্ষণের কৌশল। অবশ্য অনেক সমালোচনা ভিত্তিহীনও নয়। এর মধ্যে সরকারের সমালোচনাকারী অনেক নেতা আটক হয়েছেন। রাজ্যের সত্যিকারের প্রয়োজন, যেমন গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়েও নেই কোনো আলোচনা।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজের উদারপন্থি এই মনোভাবের কারণে কট্টরপন্থি ও রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের বিরোধিতার মুখোমুখি হতে পারে রাজপরিবার। এছাড়াও এক ধাক্কায় দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ভাবনাও খুব উচ্চাকাক্সক্ষী, বিশেষ করে উদার রাজ্য গড়তে সৌদি যুবরাজের প্রচেষ্টা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ মানুষও।