কুয়েতে কমলগঞ্জের একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

জয়নাল আবেদীন মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত শহরে একটি আবাসিক ভবনের এসির কমপ্রেসার বিষ্ফোরণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মা ও চার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাসার বাইরে থাকায় প্রাণে রক্ষা বেঁচে গেছেন জুনেদ মিয়া। ১৬ অক্টোবর সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় কুয়েত শহরের সালমিয়াত এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারা হলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে। সংবাদ শুনে এলাকায় শুকের মাতম শুরু হয়েছে।
কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন জানান, জুনেদ মিয়া স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও ৪ সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করছেন। ঘটনার দিন বিকালে জুনেদ মিয়া বাসার বাইরে থাকাকালীণ সময়ে আকস্মিমকভাবে বাসার এসির এসরি কম্প্রেসার বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে ধোঁয়ায়া শ্বাসরুদ্ধ হয়ে জুনেদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, ছেলে ফাহাদ ও ইমাদ মেয়ে জামিলা ও নামিলা মৃত্যুবরণ করে। খবর পেয়ে জুনেদ মিয়া বাসায় ফিরে একসাথে স্ত্রী সন্তানদের মৃতদেহ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন। মা রোকেয়া বেগম ও ৪ সন্তানের মৃতদেহ কুয়েতের মোবারক আল কবির হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহতের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামে একামত্র বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউ নেই। তবে এ দুর্ঘটনার খবর সোমবার রাতে শুনে কমলগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন আরও জানান, জুনেদ মিয়ার অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই জুবের মিয়া স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ভাই স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন। কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রামের বাড়িতে জুনেদে বৃদ্ধা মা ছাড়াও আত্মীয় স্বজন রয়েছেন। এখন তার মা ছাড়াও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে।