বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন বন্ড নিহত, যা বললেন মিন্নি

 


হযরত আলী হিরু ঃ
বরগুনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হয়েছেন। এ খবর শুনে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দীকা মিন্নি বলেন, স্বামী হত্যার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তারা। তবে এখন অনেকটা শঙ্কা কেটেছে। মিন্নির দাবি, স্বামী হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের যেনো বিচার হয়। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা পৌরসভার পুলিশ লাইনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তার বাবার বাসায় এভাবেই বলছিলেন মিন্নি। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে। চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছি, কেউ এগিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, বন্দুকযুদ্ধে খুনি নয়ন বন্ড মারা গেছে। আমি চাই আমার স্বামী হত্যায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিচার হোক। সবার ফাঁসি চাই আমি। ‘আমি নিজের এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। আজ নয়ন মারা যাওয়ায় আমি নিজেকে হালকা মনে করছি।’ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোর রাত ৪টার দিকে বরগুনা সদর থানার পুলিশ নয়ন বন্ডকে গ্রেফতারের জন্য পূর্ব বুড়ির চর গ্রামে যায়। ওই গ্রামের খলিল মাস্টারের বাড়ির সামনে গেলে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে নয়ন নিহত হন। হামলায় বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান মিয়াসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি চাপাতি, একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্য কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৭ জুন সকালে নিহত রিফাতের বাবা বরগুনা সদরের বড় লবণগোলার বাসিন্দা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বরগুনা শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড এবং তার সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় সোমবার পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চন্দন (২১), মো. হাসান (১৯), অলিউল্লাহ (২২) টিকটক হৃদয় (২১) এজাহারভুক্ত আসামি।  তবে মামলা প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও প্রধান অপর দুই আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজী এখনও পলাতক । আর পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন আসামি নাজমুল হাসান, সাগর ও সাইমুন।