চোর সন্দেহে কিশোরকে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

এস এম রহামান হান্নান, স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চোর সন্দেহে সাগর (১৬) নামের এক কিশোরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁেধ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ধান ক্ষেত থেকে ওই কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার ডৌহাখোলা ইউনিয়নের চরশিরামপুর গ্রামের গাউছিয়া ফিসারিতে চোর সন্দেহে কিশোরটিকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। নিহত কিশোর সাগর ময়মনসিংহ নগরীর শিববাড়ী রেললাইন বস্তির বাসিন্দা। তার বাবার নাম শিপন মিয়া।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর সাগরকে সোমবার ভোরে চোর সন্দেহে আটক করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী এবং পরিত্যক্ত গাউসিয়া ফিশারির মালিক আক্কাস আলী। আটকের পর ফিশারির সাইনবোর্ডের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ওই কিশোরকে বেধড়ক পেটায় আক্কাস আলী ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে ওই কিশোর মারা গেলে লাশ গুম করে রাখে আক্কাস আলী ও তার অনুসারীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্যাতনের সময় ছেলেটি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মৃত্যুর আগে পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি দেয়া হয়নি। এরপর ছেলেটিকে চরশ্রীরামপুরের হামেদ আলীর ছেলে আহাম্মদ আলীর অটোগাড়িতে করে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যায়। সাহেবকাচারী নামক এলাকায় যেতেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের পাশের মাঠ থেকে পুলিশ সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পর পরই আক্কাস আলী ও তার আত্মীয়স্বজন পালিয়ে যায়। গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের অফিসেও তালা ঝুলছে। জানতে চাইলে আক্কাস আলীর স্ত্রী শিউলী আক্তার বলেন, আমাদের মৎস্য খামারে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমি জানি না। ডৌহাখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার বলেন, নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহামেদ জানান, নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শিপন মিয়া বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনার পর থেকেই জড়িতরা পলাতক থাকায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের আটক করতে পুলিশি অভিযান চলছে।